।।সামিউল ইসলাম শোভন।।
একটা ফিট শরীর কে না চায়? ফিট শরীর যেমন নিজেকে সবার কাছে আকর্ষণীয় করে তোলে ঠিক তেমন ব্যেক্তিত্বকে ফুটিয়ে তোলে। বাড়তি ওজন সবার কাছেই অনেকটা অভিশাপ স্বরূপ।
অনেকেই আছেন যারা নিজেদের বাড়তি ওজন নিয়ে সবসময় বিব্রতবোধ করেন। এ নিয়ে তাদের দুশ্চিন্তার অন্ত নেই। আর এই ওজন কমাতে গিয়ে সবাই যে ভুলটা সবার আগে করে থাকেন সেটি হল কেবল খাদ্যের দিকে নজর দেন,কিন্তু কী পানীয় গ্রহণ করেন সেদিকে তেমন লক্ষ্য করেননা।
উল্লেক্ষ্য, আমেরিকানরা প্রতিদিন যে পরিমাণ ক্যালোরি গ্রহণ করেন এর এক পঞ্চমাংস আসে পানীয় থেকে। যেসব কারণে ওজন বৃদ্ধি পায়ঃ দেহের চাহিদার অতিরিক্ত খাওয়া বিশেষ করে ফ্যাট, কালসিয়াম ও ক্যালরিযুক্ত খাবার বেশি হলে ওজন বৃদ্ধি পায়। মদ্যপান, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অতিরিক্ত ঘুম, স্টেরয়েড এবং অন্যান্য নানা ধরনের ওষুধ গ্রহনের ফলেও ওজন বাড়তে পারে।
অতিরিক্ত আরাম আয়েশ ও শরীরিক পরিশ্রম কম ফলে দেহে চর্বিজমে এবং ধীরে ধীরে ওজন বাড়তে থাকে। ওজন কমাতে যেসব পানীয় গ্রহণ করবেনঃ
২। কালো কফি : ক্যাফিন চাই সামান্য। সোডা বা এনার্জি ড্রিংকের চেয়ে কফি ভালো। ব্ল্যাক কফি হলো ক্যালোরি মুক্ত এন্টি অক্সিডেন্টে ভরপুর। মধ্যম পরিমাণে কফি পান (দিনে ৩-৪ কাপ) মন মেজাজ, মনোযোগ ভালো করে, টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়, এটি ক্যান্সার রোধীও বটে।
৩। সব চেয়ে হিতকর হলো ‘পানি পান’ : কার্বনেটেড কোমল পানীয়ের বদলে ‘কেবল পানি পান’ করলে প্রতি দিনে শত শত ক্যালোরি গ্রহণ থেকে বাঁচা যায়। হিত এখানেই শেষ হয় না। খাওয়ার আগে দুগ্লাস পানি পান করলে পাকস্থলী অনেক দ্রুত ভরাট বোধ করে, তাই খাওয়া হয় কম। এছাড়া নতুন গবেষণায় দেখা যায়, প্রচুর পানি পান করলে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে দেহ বিপাকের উপর।
৪। সবুজ চায়ের বিকল্প নেই : সামান্য ক্যাফিনের সন্ধানে থাকলে গ্রীন টি হলো ভালো utso। এটি কেবল যে ক্যালোরি মুক্ত তাই নয়, কিছু গবেষণা বলে, সবুজ চা পানে ওজনও কমে। কিভাবে তা ঘটে, জানি না, তবে ক্যাফিনও ক্যাটেবিন নামে অনুপুষ্টির এতে ভূমিকা আছে। দিনে দু’বার সবুজ চা পান ভালো। ককটেল, মদ্য, কুলার সব হলো ক্ষতিকর পানীয়। হালকা বিয়ার ও ভালো না।
৫। সবজির রস বেশ ভালো : সবজির রস বেশ পুষ্টিকর, ফলের রসের অর্ধেক ক্যালোরি। এক কাপ টমেটো জুসে আছে ৪১ ক্যালোরি, কমলার রসে সে পরিমাণে রয়েছে ১২২ ক্যালোরি। ফলের নরম শাস বা সবজির শাস সহ জুসে আঁশও পাওয়া যায় ভালো। বাজারে ভেজিটেবল মকেটল বেরিয়েছে এগ্রোভিত্তিক, খামার যারা করেন এদের তৈরি। খেতে মন্দ লাগলো না। ক্ষুধাও কমে যায়।
৬। ক্ষতিকর হলো এনার্জি ড্রিংক : সোডার মতই ক্যালোরি বোমা হলো স্ট্রোটস্ ও এনার্জি ড্রিংক। এদের মধ্যে পুষ্ট গোণ করা হলেও অনেক কম ক্যালোরি খাদ্যেও থাকে সে সব পুষ্টি। যারা ওজন কমাতে চান এবং স্লিম থাকতে চান তারা এসব পানীয় না পান করে কেবল শুধু পানি পান করবেন। যেসব খাবার বেশি খাবেনঃ
১। আপেলঃ প্রতিদিন একটি করে আপেল খেলে শরীরের মেদ কমতে থাকে। আপেলের খোসা খুব তাড়াতাড়ি ওজন কমায়।
২। মটরশুটিঃ মটরশুটিতে কম মেদ হয় এবং শরীরে অনেক শক্তি ও পুস্টি যোগায় । এটি বিপাকীয় পরিবেশের জন্ন্য উত্তম খাদ্দ্য।
৩। আদাঃ আদা এমন একটি খাদ্য যার গুনের sesh নেই। ওজন কমাতে সবসময় আপনার খাদ্য তালিকায় আদা রাখুন। ওজন কমানো ছাড়াও আদা হজমে সাহায্য করে, এসিডের সমস্যা সমাধান করে।
৪। ডিমের সাদা অংশঃ মেদ কমানোর অন্যতম খাদ্য হল ডিমের সাদা অংশ। এই সাদা অংশ মেদ ও ক্যালরি কমানোর অন্যতম উপাদান। খাদ্যে বিদ্যমান কলেস্টেরল ব্যাপক প্রভাব ফেলে শরীরের রক্তের কলেস্টেরলে। ডিমের সাদা অংশ অনেক বেশি ফ্যাটি এসিড এবং প্রোপটন সমৃদ্ধ যা সমন্বয় করে শরীরের মেদ কমায়। ওজন কমাতে খাদ্য তালিকায় পরির্তন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিম্নে একটি খাদ্য তালিকার বর্ণনা দেওয়া হলোঃ
সকালঃ দুধ ছাড়া চা বা কফি, দুটো আটার রুটি, একবাটি সবজি সিদ্ধ, ১ বাটি কাঁচা শশা। শশা ওজন কমাতে জাদুর মত কাজ করে। দুপুরঃ ৫০-৭০ গ্রাম চালের ভাত। মাছ বা মুরগির ঝোল ১ বাটি। এক বাটি সবজি ও শাক, শশার সালাদ, এক বাটি ডাল এবং ২৫০ গ্রাম টক দই। বিকালঃ দুধ ছাড়া চা বা কফি, মুড়ি বা বিস্কুট ২টা। রাতঃ আটার রুটি তিনটা, একবাটি সবুজ তরকারি, একবাটি ডালম টকদই দিয়ে এক বাটি সালাদ এবং মাখন তোলা দুধ। লক্ষ্যণীয়ঃ দৈনিক এক গ্রাম প্রোটিন গ্রহণ করলে দেহে প্রোটিনের অভাব থাকে না। ৬০ কিলোগ্রাম ওজন বিশিষ্ট ব্যক্তির খাদ্য ৬০ গ্রাম প্রটিন হলেই ভাল হয়। প্রতি মাসে একদিন ওজন মাপতে হবে, লক্ষ্য রাখতে হবে ওজন বাড়ার হার কম না বেশী। ওজন বৃদ্ধি অসুখের লক্ষণ। মেদ বা ভূড়ি এদের অতিরিক্ত ওজন কোনটাই স্বাস্থ্যের লক্ষণ নয়। বরং নানা অসুখের কারণ হয়ে দেখা দেয় একথা সব সময় মনে রাখবেন এবং স্বাস্থ্য সচেতন হবেন।