Saturday, 1 February 2014

আলসার হওয়ার কারণ ও প্রতীকার



4-Peptic_ulcer
ইমরান সাহেব বয়স ৩৫ কোঠায়।তিনি কাজ করছেন একটি এস.ই.ও কম্পানিতে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অফিস করেন।সব সময় কাজের বেস্ততার মধ্যে থাকেন। তাই খাবারের কোনো ঠিক নেই।নিজের দিকে তাকানোর মতো সময়ও নেই।তিনি প্রায়ই খেয়াল করছেন মাঝে মাঝে পেটের ওপরের দিকে ব্যথা করছে। শেষরাতে বেথাটা একটু বেশি করে। হঠাৎ রমজান মাসের প্রথম দিকে পেটের সমস্যাটা যেন অনেক বেড়ে গেল।
কিছু গ্যাসের ওষুধ নিজেই কিনে খেলেন। দু-তিন দিন ভালো বোধ হলো, তারপর যা তা-ই।তারপর তিনি ডাক্তার দেখালেন।
বিভিন্ন পরীক্ষা ও এন্ডোস্কোপি করার পর ডাক্তার বললেন, পেটে আলসার হয়েছে ।ডাক্তার সে অনুযায়ী চিকিৎসাপত্র দিয়ে বললেন, ঠিকমতো ওষুধ খেলে এবং নিয়ম মেনে চললে এ সমস্যা একদম ভালো হয়ে যাবে; অন্যথায় এই আলসার থেকে খুব খারাপ অসুখ।আলসার থেকে ক্যান্সারেও গড়াতে পারে।
যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে পেপটিক আলসারে ভুগছেন কিন্তু কখনোই গুরুত্ব দেননি।কিন্তু এটি খুবই যন্ত্রণাদায়ক অসুখ।একটু সচেতনতা, এ রোগ সম্পর্কে সাধারণ ধারণা এবং দেহের প্রতি সামান্য যত্নের সাহায়্যেই এ রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায় সম্ভব।
পেপটিক আলসারের কারণ-
- কম পানি ও ফলমূল গ্রহণ করলে
- খাবারে অরুচি
- বুক জ্বালাপোড়া করা
- অতিরিক্ত ঝাল ও মসলাযুক্ত খাবার খেলে
- দীর্ঘদিন ধরে খাবার খেতে অনিয়ম করা
- পেটের ওপরের দিকে চিনচিন করে ব্যথা অথবা অস্বচ্চিবোধ
- জীবাণুর আক্রমণ, যেমনথ হেলিকোব্যাকটার পাইলরি দিয়ে সংক্রমিত হলে
- অতিরিক্ত ধূমপান ও মদ্যপান করলে
লক্ষণ
- যদি পেটের আলসারের ব্যথার সঙ্গে পেছনে পিঠের দিকে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। অনেক সময় আলসারের – বমি বমি ভাব
- বমি হতে পারে
- অ্যাসপিরিন অথবা ব্যথানাশক অন্যান্য ওষুধ খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
- টক ঢেঁকুড় ওঠা অথবা পেটে গ্যাস সৃষ্টি হওয়া
- আ্যান্টাসিড ট্যাবলেট অথবা তরল অ্যান্টাসিড সেবন করতে পারেন।
- কালো রঙের পায়খানা অথবা রক্তমিশ্রিত পায়খানা হওয়া
যা করতে হবে
- আলসার প্রতিরোধ করার জন্য প্রচুর পানি অথবা তরলজাতীয় খাবার গ্রহণ করুন। কিন্তু দুধ খাবেন না; কারণ এটি এসিড নিঃসরণ আরো বাড়ায়।
কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন
- যদি রক্তবমি হয় অথবা কফি বা কালচে রঙের বমি হয়
কারণে পাকস্থলী অথবা অন্ত্র ছিদ্র হয়ে গেলে এ রকম সমস্যার সৃষ্টি হয়।
- যদি কখনো শরীর দুর্বল ও অবসাদগ্রচ্চ অথবা দেহ ঠাণ্ডা হয়ে যায়। কোনো কোনো সময় আলসারের কারণে পেটের মধ্যে অনেক রক্তক্ষরণ হলে এ রকম পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
- যদি কখনো কালো রঙের অথবা রক্তমিশ্রিত পায়খানা হয়।
- পেটে তীব্র ব্যথা অনুভূত হলে।
- বেশি করে পানি ও ফলমূল গ্রহণ করুন
- যদি আলসারের লক্ষণগুলো দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী থাকে।
প্রতিরোধ
- অতিরিক্ত ঝাল ও মসলাসমৃদ্ধ খাবার পরিহার করুন
- নির্দিষ্ট সময়ে নিয়মমাফিক পুষ্টিকর খাবার খান
- অতিরিক্ত খাবার খাবেন না
- টেনশন পরিহার করুন
- ধূমপান ও মদ্যপান থেকে বিরত থাকুন
- ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক যেকোনো ওষুধ গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন
- খালি পেটে দীর্ঘ সময় থাকবেন না
- যেসব খাবারে অরুচি হয়, সেগুলো জোর করে খাবেন না
- সময়মতো এবং নির্দিষ্ট দিন ধরে ওষুধ না খেলে এই রোগ বারবার হয়। তাই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মমাফিক ও নির্দিষ্ট দিন পর্যন্ত ওষুধ সেবন করা উচিত।
ওষুধ থেকে যেকোনো রোগের ক্ষেত্রে প্রতিরোধ অনেক বেশি কার্যকর । একটু সচেতনতা এবং নিয়মমাফিক জীবনধারণের মাধ্যমে আমরা খুব সহজেই এ রোগ প্রতিরোধ করতে পারি এবং উপভোগ করতে পারি এক সুস্থ ও সুন্দর জীবন।